Benefits of Reading Biographies in Bengali

জীবনীমূলক বই পড়া আমাদের কেন উচিত? Benefits of Reading Biographies in Bengali

জীবনীমূলক বই পড়ার উপকারিতা – Benefits of Reading Biographies


জীবনে যদি তুমি Improve করতে চাও নিজেকে, তাহলে বই পড়ার মতো সেরা জিনিস আর কিছুই হয়তো নেই | বই পড়ার মাধ্যমে একটা মানুষ দিনে দিনে নিজেকে Grow করতে পারে অনায়াসেই |

আমি কিন্তু এখানে স্কুল বা কলেজের সিলেবাস সম্বন্ধীয় বই পড়ার কথা মোটেও বলছি না তোমাকে |

হ্যাঁ, এইসব বই পড়ে তুমি হয়তো স্কুল বা কলেজে ভালো ফল করতেই পারো কিংবা কোনো Competitive পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হয়ে ভালো টাকার চাকরিও পেতে পারো |

কিন্তু জীবনকে আরো ভালোভাবে চিনতে হলে এবং নিজেকে একজন প্রকৃত Mature মানুষ বানাতে হলে তোমায় বিভিন্ন ধরনের আলাদা বইও পড়তেই হবে, যেমন-Biographies, Self-Help বা Productivity সম্বন্ধীয় বই |

বর্তমানে আজ অনেক কম মানুষই আছেন যারা বই পড়তে ভালোবাসেন কিন্তু যত দিন যাচ্ছে বইপ্রেমিকের সংখ্যা ততই কমছে |

জীবনীমূলক বই পড়া আমাদের কেন উচিত? Benefits of Reading Biographies in Bengali

এর পিছনে অবশ্য সবচেয়ে বড় কারণ সোশ্যাল মিডিয়া সাইট |

আজ বেশিরভাগ মানুষেরই দিনের বেশিরভাগ সময়, বই পড়ে কাটানোর বদলে কাটে সোশ্যাল সাইটেই | ঘন্টার পর ঘন্টা চলতেই থাকে চ্যাটিং আর টাইমলাইন সার্ফিং কিন্তু তাতেও মন ভরে না |

এদিকে আবার বেশিরভাগ Young Generation-এর জীবনের লক্ষ্য যদি জানতে চাওয়া হয়, তাহলে সেইগুলি হয় বিশাল বড় বড় |

কিন্তু সেই লক্ষ্যকে পূরণ করার জন্য, কোথায় সময় ব্যয় করা সত্যিকারে প্রয়োজন তাদের মনেই থাকেনা |

হাসির কথা হলো এই যে, যারা এইসব সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলির আবিষ্কর্তা তারা নিজেরাই কিন্তু প্রতিদিন অন্তত ৪ থেকে ৮ ঘন্টা বই পড়েন |

আমার কথা বিশ্বাস না হলে, তুমি সেইসব মানুষদের সম্বন্ধে Google-এ একটু রিসার্চ করে দেখতেই পারো বা তাদের interview ভিডিওগুলোও দেখতে পারো |

পৃথিবীতে যত মহান মানুষ আছেন বা ছিলেন তারা প্রত্যেকেই কিন্তু বই অবশ্যই পড়েন বা পড়তেন |

সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলিকে ব্যবহার করা কোনো খারাপ জিনিস নয় এমনকি আমিও ব্যবহার করি ! তবে সেটা সামান্য সময়ের জন্যই, বই পড়ার প্রতি আমি নিজেকে  একটু বেশি সময়ই দিই সারাদিন |

আজকে আমি তোমাকে বলব Biography বা Autobiography Books পড়লে তুমি নিজের জীবনে কি কি উপকার পেতে পারো  | তো চলো সেইগুলিকে Points এর আকারে প্রথমে একটু দেখে নেওয়া যাক –

এর উপকারিতা গুলো হল যথাক্রমে:

  • বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে জানা
  • নিজে থেকে খুঁজে বার করার সুযোগ
  • তাঁদের দৃষ্টিকোণ দিয়ে দুনিয়াকে সঠিকভাবে নিরীক্ষণ
  • নিজের ভিতর অনুপ্রেরণা ও ভালো গুনগুলির বিকাশ
  • জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার বিকাশ
  • ব্যর্থতার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে জানা

১. বিখ্যাত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে জানা:
জীবনী বা আত্মজীবনী মূলক বই পড়ার সব থেকে বড় Benefit হলো আমরা সেইসব Successful মানুষদের আরো কাছ থেকে জানতে পারি |

তারা কিভাবে নিজেদের জীবন কাটিয়েছিলেন, তাদের জীবনে কি কি সমস্যা এসেছিল, কিভাবে তারা সেইসব সমস্যাকে জয় করে আজ সফল হয়েছেন, সেইসবই আমরা একদম বিস্তারিত ভাবে জানতে পারি |

এছাড়াও তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া প্রত্যেকটি পর্ব থেকেও আমরা কিছু না কিছু নতুন তথ্য নিশ্চই পেতে পারি যা আমরা আমাদের জীবনে ব্যবহার করে নিজেদের জীবনেকে আরো Better আর Efficient করে তুলতে পারি বর্তমানে |

২. নিজে থেকে খুঁজে বার করার সুযোগ:
দেখো, একটি ভালো Self-help বা Personal Development বই পড়ে আমরা হয়তো বিভিন্ন Steps, Tools কিংবা Techniques সম্বন্ধে জানতে পারি | সেইগুলি হলো আমাদের কাছে খুবই দুর্দান্ত কিছু মূল্যবান Shortcuts যা আমাদের জীবনের বেশিরভাগ অঞ্চলকেই Improve করতে পারে |

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সেইসব বই পড়ার পর আমাদের মাত্র কিছুদিনই সমস্ত Points মনে থাকে | তারপর দিন যত যায় আমরা তা আসতে আসতে ভুলতে থাকি |

অন্যদিকে জীবনীমূলক বই পড়লে তুমি সরাসরি কোনো Points বা Steps খুঁজে পাবেনা সেটা পরোপুরি তোমায় নিজে থেকে খুঁজে বার করতে হবে | নিজের বুদ্ধি আর চিন্তা শক্তিকে কাজে লাগিয়েই তুমি একমাত্র সেখান থেকে কিছু মূল্যবান Points উদ্ধার করতে পারবে |

আর আমি মনে করি আমরা যদি কোনো জিনিস মাথা খাটিয়ে উদ্ধার করি তাহলে তা আমাদের সারাজীবন মনে থাকে এবং আমরা সেটা চট করে ভুলিনা |

৩. তাঁদের দৃষ্টিকোণ দিয়ে দুনিয়াকে সঠিকভাবে নিরীক্ষণ:
Biographies কিন্তু আমাদের Point of View বা দৃষ্টিকোনকে বদলাতেও সাহায্য করে ভীষনভাবে | আজ দুনিয়ার বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের সিঙ্গেল Point of View দিয়ে অন্যদের এবং কোনো পরিস্থিতিকে বিচার করার চেষ্টা করে |

যেটা করা কিন্তু আমাদের কারোরই উচিত নয়, এরফলে কোনদিনই কোনো সমস্যা কিংবা জটিলতার অবসান হবেনা ভালোভাবে |জীবনীমূলক বই পড়া আমাদের কেন উচিত? Benefits of Reading Biographies in Bengali
সফল ব্যক্তিদের সবচেয়ে বড় গুন হলো তারা চট করে এক তরফা বিচার করেন না | তারা সর্বদা কোনো সিদ্ধান্তে পৌছানোর আগে সর্বপ্রথম অন্যের দৃষ্টিকোন দিয়ে সেই বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করে, তারপরই তারা কোনো সিদ্ধান্তে আসে |

Read More: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবন পরিচয়

জীবনী বা আত্মজীবনী মূলক বই পড়ার মাধ্যমে আমরা আরো ভালো ভাবে সেই ব্যক্তির চিন্তাধারা এবং দৃষ্টিকোন সম্বন্ধে বিষদে জানতে পারি, যা আমাদের নিজেদের মানসিকতাকে বদলাতে সাহায্য করে |

আমরা যদি কোনভাবে নিজের চিন্তাধারা আর দৃষ্টিকোনকে তাদের চিন্তাধারা আর দৃষ্টিকোনের সাথে এক করতে পারি, তাহলে আমরাও পারব নিজেদের একজন Better মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে |

৪. নিজের ভিতর অনুপ্রেরণা ও ভালো গুনগুলির বিকাশ:
জীবনে সফল হতে গেলে বা নিজের বড় স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে পরিণত করতে হলে অনুপ্রাণিত থাকা অবশ্যই প্রয়োজন | অনুপ্রেরণাই হলো সফলতার মূল মন্ত্র |

একটি মহান মানুষের জীবন কাহিনী আমাদের ভিতর অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করতে পারে |

সেইসব প্রত্যেকটি মানুষ যাদের আমরা আজ সফল বলে চিনি; তাদের জীবনের সংঘর্ষ, হার না মানা চিন্তাধারা, কঠোর পরিশ্রম, কোনো কাজের প্রতি তাদের Dedication এই সবই আমাদের অনেক কিছু শেখায় |

তাদের সেই জীবনী পড়ে আমরা নিজেদের মধ্যে অনেক ভালো গুনের বিকাশও করতে পারি |

তাছাড়া, এইসব বই পড়ে আমরা বাস্তবের সাথেও ভীষণ ভালোভাবে পরিচিত হই এবং এটা বুঝতে পারি যে, জীবনে সংঘর্ষ ছাড়া কোনো কিছুকে Achieve করা কখনই সম্ভব নয় |

আমার চাইলেও জীবনে তাদের মত সফল একজন ব্যক্তিত্ব হতেই পারি, যদি আমরা তাদের মত কিছু ভালো গুনগুলোকে নিজেদের মধ্যে বিকাশ করতে সক্ষম হই আর কঠিন সময়ে মানসিকতাকে দৃঢ় রাখতে পারি |

৫. জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার বিকাশ:
আমরা যখন স্কুল বা কলেজে পড়ি তখন সেখান থেকে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের Skill কে বিকাশ করি, যেমন- কঠিন থেকে কঠিন অঙ্ককে কিভাবে Solve করতে হয়, Essay কিভাবে লিখতে হয় কিংবা কিভাবে কোনো কম্পিউটার সফটওয়্যারকে প্রোগ্রাম করতে হয় এইসব |

যা আমাদের ক্যারিয়ার সম্বন্ধীয় বিভিন্ন কাজে নিজেকে Develop করার ক্ষেত্রে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ |

কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো, যা আমাদের জীবনে বিকাশ করা সবচেয়ে বেশি জরুরি, সেইগুলো কি কোনো স্কুল বা কলেজে সেখানো হয়?

আমার উত্তর হলো “না”, শেখানো একদমই হয়না | সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো, আসলে হল এইগুলো:

  • জীবনের লক্ষ্য অর্জনের গুরুত্ব
  • একতরফা বিচার না করে অন্যের দৃষ্টিকোণ দিয়ে কোনো বিষয় বা সমস্যাকে বোঝা
  • কোনো কিছু শিখতে হলে অন্যের কথা মন দিয়ে শোনা
  • সহকর্মীদের মতামতের উপর নির্ভর না করে স্বাধীন হতে শেখা
  • অন্যের ভরসায় বসে না থেকে বা অন্যকে দোষারোপ না করে নিজের পছন্দ এবং কাজের দায়িত্ব নিজে নিতে শেখা
  • কোনো কিছু শেখার প্রতি নিজের interest কে বিকাশ করা
  • সহানুভূতিশীল হওয়া এবং সকলকে সম্মান ও সাহায্য করতে শেখা

একটা ভালো আত্মজীবনী বা জীবনী মূলক বই পড়ে একটা মানুষ এই সমস্ত বিষয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে অনায়াসেই সমস্ত কিছু বিস্তারিত জানতে পারে এবং এইসব শিক্ষা গুলোকে নিজের জীবনে Apply করে নিজেকে অনেক অনেক Better মানুষ বানাতে পারে |

আর একটা Better মানুষই একটা Better সমাজ বানানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, আশা করি তুমিও আমার এই কথার সাথে একমত হবে |

৬. ব্যর্থতার প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে জানা:
আমরা যখন ধীরে ধীরে ছোট থেকে বড় হই, তখন আমাদের বাড়ির বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন এমনকি স্কুলের স্যার ও ম্যাডামরাও বলেন যে জীবনে ফেল করা হলো সবচেয়ে বড় খারাপ জিনিস | এটা কখনই আমাদের করা উচিত নয় | আমাদের সর্বদা প্রথম হওয়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত |

কিন্তু বাস্তবে ফেল করা কোনো খারাপ জিনিস নয় বরং অনেক অনেক ভালো |

এখন তুমি হয়তো নিশ্চই ভাবছ যে, আমি এইসব কি বলছি – “ফেল করা ভালো?” | হ্যাঁ বন্ধু, আমি ঠিকই বলছি ফেল করা খারাপ না |জীবনীমূলক বই পড়া আমাদের কেন উচিত? Benefits of Reading Biographies in Bengaliতুমি যদি কোনো সফল ব্যক্তির জীবনী পড়া শুরু কর তাহলে তুমি ফেল বা ব্যর্থতার আসল অর্থটা বুঝতে পারবে |

ফেল বা ব্যর্থতা একটা মানুষকে আবার নতুন সুযোগ করে করে দেয় সেই বিষয়ের উপর নিজের দুর্বলতাকে দূর করার |

তুমি কি জানো? লাইট বাল্বের আবিষ্কর্তা স্যার থমাস আলভা এডিসনও লাইট বাল্ব আবিষ্কার করতে গিয়ে ৯৯৯৯ বার ব্যর্থ হন এবং শেষে ১০০০০ বারের বেলায় এসে তিনি সফলতার মুখ দেখেন |

ভাবতে পারছো একবার নয়, একশোবার নয় পুরো ৯৯৯৯ বার ব্যর্থ হন তিনি | কিন্তু তাও তিনি হার মানেননি এবং নিজের কাজ চালিয়ে গেছেন |

যখন তাঁর ইন্টারভিউ নেওয়া হয়, তখন ইন্টারভিউকারী তাঁকে প্রশ্ন করেন – আপনি কি করে এতবার লাগাতার ফেল হওয়ার পরও হার না মেনে নিজের কাজ চালিয়েছিলেন?

তখন এই প্রশ্নের উত্তরে এডিসন সেই ব্যক্তিকে জবাব দেন “আমি ৯৯৯৯ বার অসফল হয়নি, আমি এতবার এমন সব পথ বার করেছিলাম সেটিকে আবিষ্কার করার, যেগুলি কোনো কাজেই আসেনি” |

শুধু স্যার থমাস আলভা এডিসনই কেন? আজ এবং আগে যত পৃথিবীতে মহান ব্যক্তিরা আছেন বা ছিলেন তাঁরা সবাই জীবনে ব্যর্থতার স্বীকার হয়েছেন |

Read More: বারাক ওবামার কিছু মহান উক্তিসমূহ

একটা কথা মনে রাখবে যে, জীবনে প্রথম হওয়াও যেমন জরুরি ঠিক তেমনই ফেল করাও সমান জরুরি |

তার মানে আমি কিন্তু তোমাকে এখানে এটা মোটেও বলছিনা যে, তুমি জীবনে কোনো কিছুতেই ভালো ফল করার বা প্রথম হওয়ার চেষ্টাই করোনা |

এইসব কথা তুমি যদি একটু সময়ের জন্যও ভেবে থাকো, তাহলে এই চিন্তা এখুনি তাড়াতাড়ি মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দেও |

প্রথম বা ভালো ফল করতে কে না চায়? আমি নিজেও চাই!

আমি শুধু এটা তোমাকে বোঝাতে চাইছি যে ধর, তুমি যদি কোনো বিষয়ে বা কোনো কাজে তেমন একটা ভালো হয়ে না থাকো বা ফেল হও বারবার সেইসবে, তাহলে সেই ব্যর্থতাটাকে নিজের দুর্বলতা ভেবনা |

এই ব্যর্থতাই তোমাকে সুযোগ দিচ্ছে আরো একবার নিজেকে improve করার | তাই সেই সুযোগটাকে নষ্ট করোনা |


লেখাটি যদি তোমাদের পড়ে ভালো লেগে থাকে তাহলে COMMENT করে তোমাদের মতামত আমায় অবশ্যই জানিও | আর তুমিও যদি চাও নিজের লেখা কবিতা ও ভ্রমন গল্প পাঠাতে তাহলে এখানে ক্লিক করো |

এতক্ষণ সময় দিয়ে পড়ার জন্যে তোমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই Ajob Rahasya Bolg-এর পক্ষ থেকে |

About the author

admin

Hi Readers I’m Bebeto Raha, a Professional Youtuber & a blogger from Kolkata. My hobby is Playing Guitar, Making Youtube Videos, Watching Films. Also I love to read any kinds of knowledgeable book written by any good author.

View all posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *