সন্দীপ মহেশ্বরীর সফলতার কাহিনী | Sandeep Maheshwari Success Story

সন্দীপ মহেশ্বরীর সফলতার কাহিনী | Sandeep Maheshwari Success Story

 সন্দীপ মহেশ্বরীর সফলতার কাহিনীSandeep Maheshwari Success Story


Sandeep Maheshwari যিনি কিনা আজ ভারতের একজন বিখ্যাত Motivational Speaker  তাঁর জীবনের শুরুটা কিন্তু আর পাঁচটা বাকি সাধারণ মানুষদের মতনই ছিল | তিনি একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন |

কিন্তু আজ সন্দীপ মহেশ্বরী একজন দুর্দান্ত Motivational Speaker  হওয়ার পাশাপাশি Images Bazaar নামে একটি Multi Million ডলার কোম্পানির মালিক এবং CEO, যেটি কিনা এশিয়ার সবচেয়ে বড় ভারতীয় Stock Images কোম্পানি |

সন্দীপ মহেশ্বরীর সফলতার কাহিনী | Sandeep Maheshwari Success Story

কিভাবে একটা সাধারণ ঘরের ছেলে, আজ দেখাতে দেখতে অতি কম সময়ের মধ্যে এত বড় একটি সফলতা পেলো এবং সেই সফলতার পিছনে সত্যিই ঠিক কতটা দুঃখ,কষ্ট এবং Struggle ছিল, সেইসব কথাই আজ আমরা জানবো বিষদে |

সন্দীপ মহেশ্বরীর জন্ম হয় ২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯৮০ সালে, একটি অতি সাধারণ পরিবারে | তাঁর বাবার নাম রূপ কিশোর মহেশ্বরী এবং মায়ের নাম যথাক্রমে শকুন্তলা রানী মহেশ্বরী |

সন্দীপের মায়ের কথা অনুযায়ী, সন্দীপ ছোটবেলায় ভীষণ দুষ্টু প্রকৃতির ছেলে ছিলেন এবং বেশিরভাগ সময়ই তাঁর নামে স্কুল থেকে Complain আসতো |

কিন্তু অন্যদিকে তিনি ছিলেন খুবই মেধাবী ছাত্র আর সর্বদাই তিনি স্কুলজীবনে ভালো ফল করতেন |

সন্দীপের বাবা রূপ কিশোরের অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবসা ছিলো কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই ব্যবসা সন্দীপের দশম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই বন্ধ হয়ে যায় | যার কারণে তাদের পরিবার আর্থিক সঙ্কটের প্রকোপে পরে |

এরপর পরিবারের আর্থিক সমস্যা দূর করার সমস্ত ভারটাই, ওই ছোট বয়সে তাঁর কাঁধে এসে পরে | পরিবারে সাহায্য করতে তিনি STD বুথ ও অন্যান্য ছোট খাটো জায়গায় কাজ করতে থাকেন |

তিনি দিনের বেশিরভাগ সময়টা ফোন বুথেই কাটাতেন এবং সেখান থেকে পাওয়া সামান্য পয়সার দ্বারা তাঁর পরিবারের পেট চালাতেন |

কিন্তু এত কষ্টের মধ্যেও তিনি তাঁর স্কুলের পড়া একদম বন্ধ করেননি | যখন সন্দীপ বোর্ড পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হয়ে ক্লাস ১১ পড়া শুরু করেন, সেইসময় তিনি নেহা নামের একটি মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেন আর বর্তমানে সেই ভালোবাসার মেয়েটিই হলো আজ তাঁর একমাত্র স্ত্রী নেহা মহেশ্বরী |

যখন সন্দীপ ১২ ক্লাসে ওঠেন, তখন থেকেই তাঁর মনে পয়সা কমানোর অদম্য ইচ্ছা তৈরী হয় | সেইজন্য সে এবার লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরোয়া জিনিসপত্র বেচতে শুরু করে |

এইসব করে যত পয়সা তার আয় হতো, তিনি সেই পয়সা তাঁর পরিবারের আর্থিক সাহায্যের জন্য দিয়ে দিতেন |

এরপর তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্ত Kirori Mal College থেকে B.Com পড়া শুরু করেন এবং পাশাপাশি সেইসাথে মডেলিং ও Photography নিয়েও চর্চা করতে থাকেন |

kirori mal college
কিন্তু মডেলিং জগতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি ফটোগ্রাফিতেই পুরোপুরি মনোযোগ দেন | কিন্তু কলেজে পড়ার সময় তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা আবার খারাপ হতে থাকে, যার ফলে সে ২০০১ সালে একটি Multi Level মার্কেটিং কোম্পানী Japan Life-এ যোগ দেন কাজ করার জন্য |

কিন্তু সেই কোম্পানীতে তিনি বেশিদিন কাজ করেননি, কারণ ততদিনে সন্দীপের ভিতর একজন Entrepreneur হওয়ার ইচ্ছা অবশেষে জেদে পরিণত হয়ে গিয়েছিল |

২০০২ সালে যখন তিনি সেই কোম্পানী থেকে অল্প কিছু অর্থ উপার্জন করে বেরিয়ে আসেন, তখন তিনি সেই কোম্পানিতে কর্মরত তাঁরই পরিচিত তিনজন Colleague এর সাথে মিলে পার্টনারশীপে একটি নতুন কোম্পানী তৈরী করেন |

কিন্তু মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই তাঁকে সেই কোম্পানী থেকে বের করে দেওয়া হয় |

এবার সন্দীপ মহেশ্বরীর কাছে তখন কোনো কাজ ছিলোনা, জমানো অর্থও দিনে দিনে কমে আসছিলো | তখন তিনি এবার ঠিক করেন যে, তিনি এবার একটি মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট সম্বন্ধীয় বই লিখবেন |

কিন্তু এবারও দুর্ভাগ্যবশত তাঁর লেখা সেই বইটি তেমন ভালোভাবে বিক্রি হলোনা কোথাও | আবার তিনি লাগাতার আরেকবার ব্যর্থ হলেন |

কিন্তু একটা কথা বলেনা, আমরা যা যা Skill জীবনে শিখি তা কোনো না কোনোভাবে, কোথাও না কোথাও নিশ্চই কাজে আসে !!  সন্দীপ মহেশ্বরীর ক্ষেত্রেও কিন্তু এখানে সেটাই হলো |

মার্কেটিং ম্যানেজমেন্ট সম্বন্ধীয় বই লেখার জন্য তিনি এত বই পড়ে ফেলেছিলেন যে, সেই বই পড়ে তাঁর Business আর Marketing সম্বন্ধে বিশাল Knowledge হয়ে যায় | যা তাকে ভবিষ্যতে নিজের কোম্পানি তৈরী করার ক্ষেত্রে এক বিশেষ প্রেরণা যোগায় |

আমি তোমাদের আগেই বলেছিলাম যে যখন সন্দীপ মহেশ্বরী কলেজে পড়তেন, সেই সময় তিনি পার্ট-টাইম মডেলিংও করেছিলেন যেখানে তাঁকে চূড়ান্ত ব্যর্থতার সম্মুখীন হতে হয় |

পার্ট-টাইম মডেলিং করার সময় তাঁর ফটোগ্রাফির দিকেও বিশেষ একটা ঝোঁক ছিল, সেটাও আমি তোমাদের আগেই জানিয়ে দিয়েছি |

তাই অবশেষে, সন্দীপ এবার ফটোগ্রাফিতে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় পাকাপাকি ভাবে |

তোমরা হয়তো অনেকেই জানোনা, সন্দীপ মহেশ্বরী মাত্র ৭০০০ টাকার ক্যামেরা কিনে ও মাত্র ৭ দিনের ফোটোগ্রাফি কোর্স করে নিজের Journey শুরু করেন |

ধীরে ধীরে ফটোগ্রাফি থেকে তাঁর ভালো আয় হওয়া শুরু হয়ে যায় এবং ফটোগ্রাফির মার্কেটে তাঁর ধীরে ধীরে সুনামও বাড়তে থাকে |

এবার সন্দীপ, জীবনে একটা বড় লাফ দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলো | তাইতো Photography Industry-তে নিজের নাম বানানোর জন্য তিনি Limca Books of Records-এ একটি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বানানোর প্রচেষ্টা করেন এবং সফলও হন |

২০০৩ সালে তিনি সেই ওয়ার্ল্ড রেকর্ডটি করেন, যেখানে তিনি মাত্র ১০ ঘন্টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ১২২ জন মডেলের ১০০০০টি ফটোশুট করেন যেটা Limca Books of Records-এ স্থান পায় |

এবার তিনি তাঁর এই Passion-কে বড় একটি ব্যবসায় রুপান্তরিত করার পূর্ণ চেষ্টা করতে থাকেন | তাই তিনি একটি ওয়েবসাইট নির্মানের কথা ভাবেন | এরপর ২০০৫ সালে তিনি Web Developer নিযুক্ত করে Images Bazaar ওয়েবসাইট তৈরীর কাজে লেগে পড়েন |

অবশেষে ২০০৬ সালে ভারতীয় ইন্টারনেট জগতে প্রথমবারের জন্য Lunch করা হয় ImagesBazaar.Com ওয়েবসাইটকে | এই ওয়েবসাইটটি সেই সময়ে তৈরী প্রথম এমন সাইট ছিলো যা শুধুমাত্র ভারতীয় মডেলদের ফটোগ্রাফ অনলাইনে বিক্রি করতো |

কিন্তু সাইট lunch করার পরও সেখানে কোনো ছবি বিক্রি হচ্ছিলনা | তার প্রধান কারণ অবশ্যই সেই ওয়েবসাইটের Slow Speed ছিলো |

ওয়েবসাইটটি খুলতে প্রায় ৩-৫ মিনিট সময় নিচ্ছিলো যার ফলে ক্রেতারা সেখান থেকে কোনো কিছু কেনা পছন্দ করছিলো না |

এরফলে দেখতে দেখতেই তাঁর ব্যবসা, কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার দোর্ গোড়ায় চলে আসলো |

কিন্তু আমাদের সন্দীপ মহেশ্বরী এত সহজে ছাড়বার পাত্র ছিলেন না | অন্য কোনো সাধারণ মানুষ হলে, এত কিছু হওয়ার পর পুরোপুরি মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরতো আর হয়তো আত্মহত্যাও করে ফেলতো এতদিনে |

জানো তো, মানুষের ভীতর যদি কোনোভাবে কোনো কিছু পাওয়ার বা গড়ে তোলার অদম্য ইচ্ছা তৈরী হয়ে যায়, তাহলে সে বারবার আঘাত পাওয়ার পরও ভেঙ্গে পরেনা বরং Solution বার করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে |

Related Post: অটল বিহারী বাজপায়ীর সফলতার কাহিনী

নিজের স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য সেও এবার মরিয়া হয়েই উঠেছিলো তাইতো সে পুরো ৮দিন স্নান-খাওয়া ভুলে শুধু নিজের অফিসেই পরে রইলো ওয়েবসাইটের Slow Speed-কে চিরতরে নির্মূল করার জন্যে |

সন্দীপ রাতদিন ইন্টারনেট ও বই পড়ে প্রোগ্রামিং শেখার চেষ্টা করতে থাকলো এবং অবশেষে সে তাঁর ওয়েবসাইটের ডাটাবেসে, সাইটের Slow Speed হওয়ার কারণ গুলোকে ধরতে পারলো |

সন্দীপ তারপর সাথে সাথেই সেই Drawback গুলো Web Developer-কে দেখালো এবং কি কি ঠিক করতে হবে সেইসবও তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে দিলো | এরপর Web Developer-এর সহযোগীতায় সেই সমস্যা তাড়াতাড়ি ঠিক করাও সম্ভব হলো অবশেষে |

ওয়েবসাইটের সমস্যা ঠিক করার পরেই সাইটের Loading Speed অবশেষে বেড়ে গেলো | যেই সাইট আজ থেকে ৮ দিন আগেও খুলতে ৩-৫ মিনিট লাগতো সেটা এখন মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই খুলে যেতে থাকলো আর ওয়েবসাইটের গতি বাড়ার সাথে সাথে বিক্রিও শুরু হয়ে গেল ধীরে ধীরে |

বর্তমানে ImagesBazar.Com এর বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ১০ কোটি টাকার কাছাকাছি |

Images Bazaar

আমাদের প্রিয় সন্দীপ স্যার ভারতবর্ষের একমাত্র বড়মাপের Inspirational Speaker যিনি কিনা একদম Free of Cost নিজের Motivational Seminar করেন এবং ভারতের প্রত্যেক যুব সম্প্রদায়কে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের, নিজের Real Spiritual জ্ঞানও শেয়ার করেন |

সন্দীপ মহেশ্বরী যদি আজ চাইতেন তাহলে এর থেকেও বিশাল অঙ্কের টাকা প্রতিবছর উপার্জন করতে পারতেন বাকি ওয়ার্ল্ড ক্লাস সব কোম্পানির মালিকদের মতো, আরো কিছু Product বা Service সম্বন্ধীয় কোম্পানী তৈরী করে কিন্তু তিনি তা করেননি |

তাঁর মতে, আমাদের সকলের ততটুকু অর্থই উপার্জন করা উচিত যতটুকু আমাদের নিজেদের, নিজের পরিবারের এবং সমাজের বাকি মানুষদের কল্যানে কাজে আসতে পারে |

টাকার অঙ্ক হলো শুধুমাত্র একটি সংখ্যা, আর সংখ্যার প্রকৃতি সর্বদাই অসীম যা কোনদিন শেষ হওয়ার নয় | যত টাকাই তুমি উপার্জন করোনা কেন সেটা সর্বদা কম বলেই মনে হবে তোমার কাছে |

তো বন্ধুরা, এই ছিলো Sandeep Maheshwari Life story এবং তাঁর সফলতার কাহিনী | এবার জানা যাক তাঁর বিখ্যাত কিছু উক্তি সম্বন্ধে:

Sandeep Maheshwari Quotes

১. “চিন্তা না করে করা কাজ এবং কাজ না করে শুধু চিন্তা করা, আপনাকে ১০০% অসফলতা দেবে”

২. “সব সময় মনে রাখবেন আপনি আপনার সমস্যার থেকে অনেক বেশি বড়”

৩. “অন্যরা আপনার বেপারে কি ভাবে তার থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি নিজের ব্যাপারে কি ভাবেন”

৪. “জীবন আপনার জন্য অপেক্ষা করছে, তাই আপনার সেরাটা তাকে দিন”

৫. “হাজারটা নয়, আপনি যা করতে চান তার জন্য একটি বড় কারণ খুঁজুন, সেটাই যথেষ্ট”

৬. “আপনি যদি সেই ব্যক্তির সন্ধানে থাকেন যে আপনার জীবন পরিবর্তন করে দেবে, তাহলে একবার আয়নার সামনে তাকিয়ে দেখুন”

৭. “সফল ব্যক্তিরা অন্যদের থেকে মোটেই আলাদা নয়, শুধু তাদের চিন্তাভাবনা অন্যদের থেকে আলাদা”

৮. “যেইসব মানুষরা তাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা বদল করেন না, তারা কোনো কিছুই বদলাতে পারবেন না”

৯. “একটি ইচ্ছা কিছুই বদলাতে পারেনা, একটি সিদ্ধান্ত কিছু বদলাতে পারে, কিন্তু একটি নিশ্চয়তা সব কিছুই বদলে দিতে পারে”

১০. “ময়দান ছেড়ে চলে যেওনা; প্রতীক্ষাও করোনা, শুধু চলতে থাকো”

১১. “জীবনে যদি কিছু করতে চাও তাহলে সত্যিটা বলো, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে কথা বলোনা”

১২. “সবচেয়ে বড় রোগ, কি বলবে লোক”

১৩. “না পালাতে হবে, না থেমে পরতে হবে | শুধু চলতে হবে, শুধুই চলতে হবে”

১৪. “তুই এটাই ভাবছিস না যে; তোর বাড়ির লোক কী ভাববে, তোর আত্মীয়রা কি ভাববে? ভালোই তো ভেবেই যা তবে”

১৫. “তোমায় শক্তিশালী হতে হবে, এইজন্য না যে তুমি কারোর উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারো বরং এইজন্যই যাতে তোমার উপর কেউ চাপ সৃষ্টি করতে না পারে”

১৬. “শেখার উপর মনোযোগ দাও, উপার্জনের উপর নয় | উপার্জন সর্বদা ভবিষ্যতে হওয়া সম্ভব কিন্তু শেখা শুধু বর্তমান মুহূর্তেই হয় | তাই শেখার উপরেই মনোযোগ দাও, উপার্জনের উপর নয়”

১৭. “শুধু শিখে যেতে হবে, যে শিখে চলেছে সে জীবিত; আর যে শেখা বন্ধ করে দিয়েছে, সে জীবিত থেকেও মৃত মানুষ”

১৮. “যখনই কোনো ব্যক্তি আপনাকে এটা বলবে যে আপনি এটা করতে পারবেন না, তো সেই মানুষটি শুধু এটাই আপনাকে বলতে চাইছে যে আমি এটা করতে পারবোনা”

সন্দীপ মহেশ্বরীর মতে সফলতা অর্জনের নিয়ম

সব পরিস্থিতিতে খুশি থাকো:
সন্দীপ স্যারের মতে আমরা জীবনে খুশি থাকবো, না সারা জীবন দুঃখেই কাটাবো সেটা সম্পূর্ণ আমরা নিজেরাই বিচার করি | আমরা জীবনে কি করলাম বা কত কি অর্জন করলাম সেটার উপর আমাদের খুশি নির্ভর করেনা |

আমাদের নিজেদের চরিত্র যদি সর্বদা হাসি-খুশি স্বভাবের থাকে তাহলে আমরা অনায়াসেই জীবনের কঠিন দিন গুলোতেও খোশমেজাজে থাকতে পারবো | কিন্তু আমাদের চরিত্র যদি সর্বদা দুঃখী থাকে তাহলে আমরা জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতেই দুঃখীই থাকবো |

তাই আমাদের নিজেকেই বিচার করতে হবে, আমাদের চরিত্র বা স্বভাব কেমন হলে আমাদের নিজেদের পক্ষে Better হবে |

সময় নষ্ট করোনা:
একটা কথা সব সময়ই মাথায় রাখবে যে, Time is Money | তাই আমাদের কখনই কোনোভাবে বাজে সময় নষ্ট করা উচিত নয় |

সন্দীপ মহেশ্বরীও কিন্তু ঠিক একই কথায় বিশ্বাসী | তিনি তাঁর অভিজ্ঞতার ভিক্তিতে বলেছেন, আমাদের সর্বদা কোনো না কোনো কাজের সাথে যুক্ত থাকা উচিত, সময় নষ্ট করার বদলে |

আর এমনিতেও কোথায় আছে “খালি মস্তিষ্ক হল শয়তানের ঘর” | আমরা যখন খালি বসে থাকি তখন বেশিরভাগই আমরা ভালো সব কাজ করার বদলে খারাপ কাজই বেশি করি |

যেমন – অতিরিক্ত সময় ধরে ফোন ঘাটা, কম্পিউটারে অনবরত গেমস খেলা অথবা টেলিভিশনে সারাক্ষণ ধরে সিরিয়াল দেখা প্রভৃতি | এইসব করার ফলে আর কিছুনা হোক, আমরা আমাদের লক্ষ্য থেকে দিকভ্রষ্ট হয়েই যাবো পুরোপুরি এটা নিশ্চিত |

মনোভাবই হলো সবকিছু:
জীবনে কোনো পরিস্থিতিকে, আমরা কোন নজরে দেখবো সেটা আমাদের উপরই নির্ভর করে সব থেকে বেশি | কোনো কাজ ছোট কিংবা বড় হয়না, সেই কাজকে আমরা কত বড় করে গড়ে তুলব সেটা সর্বদা আমাদের উপরই নির্ভর করে |

পৃথিবীতে যত সফল ব্যক্তিদের আমরা জানি, তাদের মধ্যে বেশির ভাগই কোনো কাজকে ছোট কিংবা বড় হিসাবে দেখেন না | তারা সবাই জানে কোনো বড় কিছুর শুরু হয় ছোট থেকেই |

ক্রমশ সামনের দিকে অগ্রসর হন:
সন্দীপ মহেশ্বরীর মতে, আমাদের সকলেরই জীবনে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত | কোনো কাজে আমাদের যদি ভুল হয় সেক্ষেত্রে আমাদের হতাশ না হয়ে বরং সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের Improve করা উচিত |

তাছাড়া আমরা যদি কোনো কাজে সফল হই তাহলে, আমাদের তা সকলের সামনে জাহির করা উচিত নয় এটা বলে যে, আমি এই করেছি-আমি সেই করেছি |

আমাদের কখনই নিজেদের কাজের উপর অহংকার করা উচিত নয় বরং আমাদের একদম Down to Earth থেকে নিজেদের কাজকে আরো Better আর Efficient করার পিছনে মনোযোগ দেওয়া উচিত |

যেকোনো পরিবর্তনে দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নেওয়া উচিত:
তাঁর মতে, দুনিয়া সর্বদা পরিবর্তনশীল তাই যেইসব মানুষরা নিজেকে দ্রুততার সাথে সেই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়াতে পারবে, তারাই একমাত্র শেষে Survive করবে |

দেখো, যেভাবে প্রত্যেক মুহূর্তে টেকনোলজি এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেইভাবেই আমাদের দৈনন্দিন তথা ব্যবসায়িক পরিস্থিতিও বদলে যাচ্ছে | আজ যদি কোনো সাধারণ মানুষ বা কোনো ব্যবসায়ী নিজেদের; এই পরিবর্তনশীল জগতে মানিয়ে না নিতে সক্ষম হয় তাহলে তারা খুব তাড়াতাড়ি বড় সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে |

এক্ষেত্রে সর্বদা মাথায় রাখবে একসময়কার, পৃথিবীর সবথেকে বিখ্যাত ক্যামেরা ও ফোন কোম্পানি Kodak ও Nokia-র কথা | যারা নিজেদের যুগের সাথে ঠিক সময়ে পরিবর্তন করতে না পারায় আজ টেকনোলজির জগতে বাকি সংস্থাদের থেকে অনেক অনেক পিছিয়ে পরেছে |


Video Credit: Bong Knowledge Youtube Channel


Hope you find this post about “Biography of Sandeep Maheshwari” useful and inspiring. if you like this Information About Sandeep Maheshwari then please share on Facebook & Whatsapp. And If You Want to Share Your Own Motivational Poems & Travel Stories, Then Please Check Out Here.

About the author

admin

Hi Readers I’m Bebeto Raha, a Professional Youtuber & a blogger from Kolkata. My hobby is Playing Guitar, Making Youtube Videos, Watching Films. Also I love to read any kinds of knowledgeable book written by any good author.

View all posts

4 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *