সফলতার সূত্র | Self Improvement Tips for Successful Life

সফলতার সূত্র | Self Improvement Tips for Successful Life

সফলতার ৪ সূত্র
Self Improvement Tips for Successful Life


আজকের দিনে প্রত্যেকটা মানুষ কিন্তু সফল হতে চায় | আর সফলতাকে পাওয়ার জন্য মানুষ নানা রকমের প্রচেষ্টা করেই চলেছে তাদের দৈনন্দিন জীবনে | কিন্তু বাস্তবে যদি বিচার করি, তাহলে দুনিয়ায় অনেক কম মানুষই সফল হতে পারেন | সবার পক্ষে সফলতাকে Achieve করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা |

আসলে কেন হয় এরকম? কেন সবাই সফলতাকে Achieve করতে পারেনা? সবার মধ্যে নানা রকমের প্রতিভা থাকা সত্বেও তুবও কেন সফলতা পাওয়া সবার কাছে অসম্ভব হয়ে হয়?

আসলে কি জানো, আমাদের যত বয়স বাড়ে তত আমাদের চাহিদা বাড়ে এবং সেই সাথে বাড়ে ভয় | আর এই ভয় জিনিসটা সামাজিক কিংবা মানসিক চাপের ফলে হতে পারে |

তুমি যদি কোনো সফল মানুষের জীবনী পড়ে থাকো অথবা সেইসব মানুষদের জীবনী নিয়ে তৈরী করা কোনো সিনেমা দেখে থাকো, তাহলে তুমি জানবে যে, তাদেরও জীবনে আর বাকি পাঁচটা মানুষের মতোই সমস্যা ছিলো |

অনেক সময় তারা জীবনগত সমস্যার ফলে ভেঙ্গেও পড়েছেন কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো তারা সেইসব সমস্যায় হাল ছেড়ে না দিয়ে বরং সেই সমস্যাকে সমাধান করেছে অতি দ্রুত | যেটা কিন্তু অনেক সাধারণ মানুষেরা একদমই পারেননা করতে | ফলে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ তাদের লক্ষ্যের থেকে দিকভ্রষ্ট হয়ে পরেন |

এইসবের ফলস্বরূপ সফলতা তাদের থেকে অনেক অনেক দূরে চলে যায় | শেষ জীবনে এইসব মানুষই নিজেদের ফেলে আসা জীবন নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে থাকেন এই বলে :

“হায় রে ! কেন আমি সেই সময় ভালোভাবে নিজের জীবনকে তৈরী করতে পারিনি? যদি ঠিকভাবে আরেকটু ধৈর্য্য ধরে সেটাকে তৈরী করতে পারতাম, তাহলে আজ হয়তো আমার জীবনটা আরো Better হতো”

বন্ধু, সময় কিন্তু দ্রুত গতিতে চলে যাচ্ছে; তাই তুমি যদি জীবনে সফলতা অর্জন করতে চাও তাহলে তোমায় কিছু জিনিসকে নিজের জীবনে আজ থেকে মেনে চলা শুরু করে দিতে হবে |

আশা করি এই টিপস গুলো মেনে চললে তুমি জীবনে সফলতার অনেক কাছেই চলে যাবে:

Tip no. 1: Keep Away From Love:

প্রথমত, আমি তোমাকে বলতে চাই যে, জীবনে সফলতাকে পেতে গেলে প্রেম করার থেকে দূরে থাকতে হবে |

হ্যাঁ বন্ধু তুমি ঠিকই পড়লে, আমি এখানে তোমায় প্রেম করতেই বারণ করছি | কিন্তু তুমি ভয় পেয়েও না এই কথাটা শুনে কিংবা হতাশ হয়েও পরোনা এটা ভেবে যে “ইস !! এবার সফল হতে গেলে কী আর প্রেম করতেও পারবোনা? ধুর ছাই ভালো লাগেনা”

আমি কিন্তু তোমাকে প্রেম করতে সারাজীবনের জন্য কোনদিনই বারণ করছিনা, শুধু কিছু সময়ের জন্য তোমায় প্রেম থেকে দূরে থাকতে বলছি |

এই টিপটা আমি তোমায় কেন দিচ্ছি, সেটা একটু তোমায় একটু বুঝিয়ে দিই |

দেখো, কারোর সাথে যদি তুমি প্রেম করো তাহলে তাকে অবশ্যই সময় দিতে হবে | প্রেমের গভীরতা বাড়াতে একে অপরকে সময় দেওয়া কিন্তু অতি জরুরি | নাহলে সেই প্রেমকে টিকিয়ে রাখা অনেক চাপের হয়ে যাবে |

আমাদের বর্তমান ইয়ং জেনারেশনের সবচেয়ে মস্ত বড় একটা সমস্যা হলো, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা অনেক কম বয়সেই প্রেম করা শুরু করে দেয় যখন ক্যারিয়ার গড়ে তোলার সময় | যারফলে প্রেমটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানসিক চাহিদা অপেক্ষা শারীরিক চাহিদায় পরিনত হয় |

এই ফাঁদে পরে প্রচুর কম বয়সী ছেলেমেয়েরা শেষে নিজেদের ক্যারিয়ারকে আসল সময় গড়ে তুলতে তো অক্ষম হয়ই, সেইসাথে সেই অল্প বয়সের প্রেম অতি কম সময়ের মধ্যে ভেঙ্গেও যায় তাদের | আর ওই দুঃখ সহ্য না করতে পেরে অনেকেই আবার আত্মহত্যার পথও বেছে নেয় |

প্রত্যেক মানুষের জীবনের মূল Motive হওয়া উচিত, সর্বপ্রথম নিজের ক্যারিয়ারকে গড়ে তোলা আর ক্যারিয়ারকে গড়ে তোলার মাধ্যমে সফলতাকে অর্জন করা |

মনে রাখবে একজন সফল ব্যক্তিকে সবাই পছন্দ করে | আজ তুমি যদি সফল হয়ে যাও তাহলে তোমার কোনদিনও, অর্থের কিংবা গাড়ি-বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অভাব হবেনা | আর এটা জেনে রাখা তোমার অবশ্যই উচিত যে, প্রত্যেকের বাবা-মা তাঁর ছেলে-মেয়েকে এমন কোনো মানুষের হাতে তুলে দিতে চাইবেন না; যারা একেবারে  অকর্মণ্য |

আরো পড়ুন: বিষন্নতা থেকে মুক্তির সহজ কিছু উপায়

তুমি যদি তোমার সেই ভালোবাসার মানুষটাকে সারাজীবন সবদিক থেকে সুরক্ষিত না রাখতে পারো আর সুখেই না রাখতে পারো; তাহলে তোমায় কেউ কোনদিনও তাদের সন্তানকে তোমার হাতে তুলে দেবেন না |

তাই সর্বপ্রথম তুমি তোমার সেই কাজগুলো করো, যেগুলো তোমাকে তোমার লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবে | তুমি এখন অন্য কাউকে সময় দেওয়ার কথা না ভেবে বরং নিজেকে সময় দেওয়ার কথা ভাবো, যাতে তুমি তোমার সেই কাজগুলোকে আরও নির্ভুলতার সাথে করতে পারো |

একবার জীবনে সফল হয়ে গেলে তারপর যতখুশি প্রেম করো, যতক্ষণ ইচ্ছা তোমার প্রিয় মানুষকে সময় দেও, তখন আর তোমাকে কেউই আটকাবে না | এটা আমি তোমায় Guaranty দিয়ে বলতে পারি |

Via- Giphy

তাই যদি তুমি ভবিষ্যতে প্রেম করার কথা ভেবে থাকো বা কাউকে Propose করবে বলে ভেবে থাকো, তাহলে কিছু সময়ের জন্য নিজেকে একটু সামলাও আর সবকিছু ভুলে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার দিকে পুরোপুরি মন দেও |

আমি তোমায় আবারও বলতে পারি, এরফলে তোমার জীবনে ভালো ছাড়া খারাপ কিছুই হবেনা | শুধু আমার এই অনুরোধটা, যদি পারো তাহলে একটু মেনে চলো |

Tip no. 2 : Time Management:

দেখো, জীবনে সফল হতে গেলে তোমায় টাইমকে ম্যানেজ করা শিখতেই হবে | কারণ যেই মানুষ, সময়কে যত ভালোভাবে ম্যানেজ করতে শিখে যাবে, সফলতা এসে তারই কাছে দ্রুত ধরা দেবে | সময়কে ম্যানেজ করার মাধ্যমে, তুমি একটা Discipline-এর মধ্যে থাকবে |

যেইসব মানুষ দিনের বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে Active থেকে অথবা টিভিতে তাদের প্রিয় সিরিয়াল গুলোকে একের পর এক দেখে বেকার সময় নষ্ট করে, তাদের জীবনে সত্যি কথা বলতে কিছু হওয়া মুশকিল, যদি সে ঠিক সময়ে সেইসব না উপলব্ধি করতে পারে |

তাই নিজেকে একজন সফল মানুষের মত তৈরী করতে গেলে, সেইসব সফল মানুষদের প্রতিদিনের রুটিনকে কিছু কিছু করে নিজের জীবনে মেনে চলা শুরু করতে হবে তোমার |

তারা যেমন ভাবে প্রতিদিন নিজেদের সময়কে ম্যানেজ করে কাজগুলো সম্পূর্ণ করে, ঠিক সেইভাবেই তোমাকেও নিজের কাজগুলোকে সম্পূর্ণ করতে হবে নিজের একটা Daily Routine আর Daily Goal-কে Follow করে |

সময়ের সঠিকভাবে ব্যবহার, একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, জীবনে সফল হওয়ার ক্ষেত্রে | নিজের Improvement করার জন্য যত তুমি নতুন নতুন জিনিস শেখার প্রতি নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারবে, ততই তোমার ক্ষেত্রে ভালো |

কারণ, সফল ব্যক্তিরা কিন্তু কখনই বেকার বসে সময় নষ্ট করেননা | তারা সর্বদা কিছু না কিছু শেখার মাধ্যমে নিজেদের Improvement করে চলেন |

অনেকেই এটা মনে করে যে, সর্বদা নিজেকে ব্যস্ত রাখা কখনই সম্ভব নয় | সত্যি কথা বলতে এই কথাটা সম্পূর্ণ ভুল | তুমি চাইলেই নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারো | কিন্তু এখানে নিজেকে ব্যস্ত রাখার অর্থ এই নয় যে, তুমি সারাক্ষন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট আর টিভি সিরিয়ালে সময় নষ্ট করো |

বন্ধু, এই দুটো জিনিস একদম ভার্চুয়াল আর মিথ্যে; যেটা তোমায় মেনে নিতেই হবে | হাজার হাজার Followers আর বন্ধু বানিয়ে বাস্তবে কোনো লাভ নেই, কারণ বিপদে পরলে সেই হাজার হাজার Followers আর বন্ধু তোমার কোনো কাজেই আসবেনা | সেই সময় তোমার কাজে আসবে তোমার বাস্তবের বন্ধুরা আর পরিবারের সদস্যরা |

আরো পড়ুন: মানসিক চাপ থেকে মুক্তির কিছু উপায় যা আপনার জানা উচিত

আর সফল মানুষরা কিন্তু কখনই ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের উপর ভিত্তি করে বেঁচে থাকেন না | তাঁরা সর্বদা বাঁচেন বর্তমানে এবং অবশ্যই বাস্তবে |

তাই আজ থেকে অবাস্তব জগৎ থেকে বেরিয়ে বাস্তবে বাঁচো, তাহলেই জীবনের আসল আনন্দটা তুমি পাবে | নিজের মূল্যবান সময়কে ম্যানেজ করে, নানা জিনিস শেখার প্রতি মনোনিবেশ করো | যেগুলো সফল হওয়ার পক্ষে জরুরী |

Tip no. 3 : Hard Work

এটা হয়তো তুমি নিশ্চই মানো যে, কঠোর পরিশ্রম ছাড়া জীবনে সফলতার কথা একেবারেই অসম্ভব | তুমি যেই ফিল্ডেই কাজ করো না কেন, যদি তুমি সেই কাজকে সিরিয়াস ভাবে না নেও তাহলে সেইকাজে তোমার সফলতার হার ০% |

তুমি শুধু মনে মনে ভেবেই চলেছো যে, “আমি জীবনে একদিন নিশ্চই সফল হবো” কিন্তু এদিকে কোনো কাজকে ঠিক মত করছো না, তাহলে তোমার সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি করে?

তুমি যদি নিজের জীবনে কাজের দ্বারা সফল হতে চাও, তাহলে তোমাকে সেই কাজের প্রতি কঠোর পরিশ্রম আর প্রচুর সময় ব্যয় করতেই হবে, যাতে সেই কাজটা একদম পারফেক্ট হয় |

ততক্ষণ তোমায় কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যতক্ষণ না তুমি সেই কাজে মাস্টার না হচ্ছ | কারণ দুনিয়ার প্রত্যেকটা সফল মানুষই কিন্তু তাদের নিজের কাজে একদম মাস্টার |

দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রম করছো কিন্তু সামান্যটুকুও সফলতাও আসছে না, বার বার ব্যর্থ হচ্ছ কোনো কাজে | তাহলে এবার হয়তো তোমার কাজের Strategy তোমায় পরিবর্তন করতে হবে একটু | হয়তো তুমি সবই ঠিক করছো কিন্তু তোমার কাজের স্ট্রাটেজিতেই গলদ, তাই সেই ক্ষেত্রেও সফলতা তোমার অনেক কাছে এসে আবার দূরে চলে যাচ্ছে |

তাই আজ থেকে কাজে কঠোর পরিশ্রম করার পাশাপাশি, কাজের স্ট্রাটেজির উপরও বিশেষ নজর দেও |

Tip no. 4 : Keep Your Patience

আমার সর্বশেষ টিপস হলো, নিজের ধৈর্য্যকে ধরে রাখো | দেখো বন্ধু, জীবনে সফল যদি হতে চাও, তাহলে তোমাকে ভীষন ধৈর্য্যশীল হতে হবে | কারণ যার কোনো কিছুতেই ধৈর্য্য নেই, তার পক্ষে জীবনে কোনো কিছুকে Achieve করা বা সফল একজন ব্যক্তিত্বে পরিণত হওয়া ভীষন কঠিন |

সফলতাকে তুমি কিন্তু কখনই এক মুহূর্তের মধ্যে পেয়ে যাবেনা | এটা পাওয়ার জন্য তোমাকে অনেক সময় ব্যয় করতে হবে | অনেকের জীবনে সফলতা অনেক তাড়াতাড়ি আসে আবার অনেকের আসে বহু দেরীতে |

তুমি যদি আমেরিকার পূর্ব রাষ্ট্রপতি স্যার আব্রাহাম লিঙ্কন অথবা জনপ্রিয় খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থা KFC –এর স্রষ্ঠা স্যার কর্নেল স্যান্ডার্সের জীবনী পড়, তাহলে তুমি এটা জানতে পারবে; সফলতা জিনিসটা এনাদের জীবনে কত বড় বয়সে এসেছিলো |

তুমি চাইলে এই বিষয়ে সামান্য একটা গুগল সার্চ করেই দেখে নিতে পারো এখুনি অতি সহজেই |

হাজার ব্যর্থতার পরও কিন্তু তাঁরা কখনো নিজেদের ধৈর্য্য হারাননি | সর্বদা একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে গেছেন | নিজের প্রতি বিশ্বাস এবং আস্থা দুটোই তাঁরা শেষ অবধি রেখেছিলেন | তাইতো, বর্তমানে এই দুই মহান মানুষকে বিশ্বের প্রত্যেকটা মানুষই চেনেন |

আরো পড়ুন: Subconscious mind-এর ক্ষমতা বাড়ান এইভাবে

কখনো পারলে এই দুটো মহান মানুষের জীবনী সম্পর্কিত বই কিনে পড়ে নিও, সফলতা সম্পর্কে তোমার ধারণা সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যাবে | সেইসাথে তুমি তোমার জীবনকে আরো নতুনভাবে জানতে পারবে | আর সবশেষে জীবনে ধৈর্য্যের গুরুত্বকেও আরো স্পষ্টভাবে বুঝে যাবে |

তা এই ছিলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস সফল জীবন লাভ করার | উপরে দেওয়া এই টিপসগুলো ভালো ভাবে মনোযোগ সহকারে মেনে চললে, যেকোনো মানুষই চাইলে জীবনে সফল হতে পারে |


আশা করি তুমি “Self Improvement Tips for Successful Life in Bengali”  পড়ে নিশ্চই অনেক কিছু সুন্দর তথ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছো | পোস্টটা ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই একটু Comment করে তোমার মতামত আমায় জানিও | তোমার মূল্যবান মতামত আমাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাতে  ভীষনভাবে সাহায্য করে |

About the author

admin

Hi Readers I’m Bebeto Raha, a Professional Youtuber & a blogger from Kolkata. My hobby is Playing Guitar, Making Youtube Videos, Watching Films. Also I love to read any kinds of knowledgeable book written by any good author.

View all posts

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *