থমাস এডিসনের জীবনী | Thomas Alva Edison Life Story in Bengali

থমাস এডিসনের জীবনী | Thomas Alva Edison Life Story in Bengali

থমাস এডিসনের জীবনী
Thomas Alva Edison Life Story in Bengali


নামথমাস আলভা এডিসন/Thomas Alva Edison
জন্ম১১ই ফেব্রুয়ারী,১৮৪৭ (মিলান,ওহিও)
অভিভাবকস্যামুয়েল ওগডেন এডিসন জুনিয়র
ন্যান্সি ম্যাথিউস এলিয়ট
পেশাআবিষ্কারক,ব্যবসায়ী
জাতীয়তামার্কিন
শিক্ষাSelf-Educated
বিবাহ সঙ্গিনীমেরি স্টিলওয়েল (১৮৭১–১৮৮৪)
মিনা মিলার (১৮৮৬–১৯৩১)
সন্তানমেরিওন এসটেলা এডিসন,টমাস আলভা এডিসন জুনিয়র,উইলিয়াম লেসলি এডিসন,মেডেলিন এডিসন,চার্লস এডিসন, থিওডর এডিসন
মৃত্যু১৮ অক্টোবর ১৯৩১
আবিষ্কারলাইট বাল্ব, গ্রামাফোন, বৈদ্যুতিন গাড়ির ব্যাটারী ইত্যাদি

আমরা যে বাড়িতে আজ লাইট বাল্বের আলোয় নিজেদের দৈনন্দিন কাজ গুলো করে থাকি, তুমি কি জানো এর আবিষ্কর্তা স্বয়ং থমাস আলভা এডিসন ছিলেন | তাঁর দৌলতেই আজ গোটা মানবজাতি বৈদ্যুতিক বাল্বের আলোর আনন্দ নিতে পারছে |

আজকের এই জীবনীটা শতাব্দীর সেই সেরা এক বিজ্ঞানীর, যার ইতিবাচক চিন্তাধারা পুরো বিশ্বকে বদলে দিতে পেরেছে |

তাড়াতাড়ি হার মেনে নেওয়া আজ বেশিরভাগ মানুষের দুর্বলতার কারণ | এডিসনের মতে সফল হওয়ার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো “আরো একবার চেষ্টা করা এবং অনবরত চেষ্টা করেই যাওয়া” |

থমাস এডিসন তাঁর জীবনে বিভিন্ন আশ্চর্য জিনিসের আবিষ্কার করেছিলেন লাইট বাল্ব ছাড়াও | তাঁর আবিষ্কারের মধ্যে গ্রামাফোন, ইলেকট্রিক মেশিন, বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারী, চলমান ছবিযুক্ত ক্যামেরা ইত্যাদি ছিলো বিখ্যাত |

তিনি তাঁর জীবনে মোট ১০৯৩টি আবিষ্কার করেন, যেটা একটা বিশ্বরেকর্ড | সারাবিশ্বে খুব কম বিজ্ঞানীই আছেন বা একসময় ছিলেন যাদের নিজের ঝুলিতে এতগুলো আবিষ্কার রয়েছে |

Real Picture of Thomas Edison

থমাস আলভা এডিসনের জন্ম ১১ই ফেব্রুয়ারী,১৮৪৭ সালে আমেরিকার ওহিওর, মিলান নামক স্থানে | তাঁর বাবার নাম ছিলো স্যামুয়েল ওগডেন এডিসন এবং মায়ের নাম ছিলো ন্যান্সি ম্যাথিউস এলিয়ট |

তাদের দুজনের মোট ৭টা সন্তান ছিলো যার মধ্যে থমাস এডিসনই ছিলেন সবচেয়ে ছোট |

স্যামুয়েল এডিসন পেশায়, একজন সৈনিক ছিলেন | তিনি ১৮১২ সালে, আমেরিকা এবং ইউনাইটেড কিংডমের মধ্যে হওয়া পারস্পরিক যুদ্ধে লড়েছিলেন | তিনি সেই যুদ্ধে আমারিকার মিডলসেক্স রেজিমেন্টের একজন অধিনায়কও ছিলেন |  আর অন্যদিকে মা ন্যান্সি ছিলেন সাধারণ একজন গৃহবধু |

যখন এডিসন একটু বড় হন, তখন তাঁর বাবা-মা তাঁকে বাড়ির পাশের একটা স্থানীয় স্কুলে ভর্তি করে দেন | কিছুদিন ক্লাস করার পর এডিসনের নামে প্রায় প্রতিদিনই সেখান থেকে নালিশ আশা শুরু হয়ে যায় | অনেকবার তো এডিসনের মাকে স্কুলে হাজিরা পর্যন্তও দিতে যেতে হয়েছিল |

আসলে স্কুলের তরফ থেকে এত নালিশের কারণ কি ছিলো? কেনই বা এডিসনকে সেই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এত অপছন্দ করতো ?

এর পিছনে আসল কারণ ছিলো খুবই সাধারণ, ছোট্ট এডিসন তাঁর স্কুলের শিক্ষকদের খুব প্রশ্ন করতো পড়ানোর সময় | যারফলে সেই শিক্ষকেরা ভীষন বিরক্ত হতেন এবং তারা ভাবতেন যে, সে ইচ্ছা করেই তাদের বিরক্ত করার জন্য এইসব করছে |

তাঁর এই অস্বাভাবিক আচরণের কথা, তাদের পাড়া প্রতিবেশীরাও জানতে পারেন | যারফলে পাড়ার লোকেরাও তাঁকে মুর্খ ও বোকা মনে করতে শুরু করে দেয় |

তাঁর প্রশ্নগুলো ঠিক এইরকমের ছিলো- “যদি পাখিরা আকাশে উড়তে পারে তাহলে মানুষ কেন তা পারেনা?” | তাঁর মনে যেইধরনেরই প্রশ্ন আসতো না কেন, তিনি সেটার উত্তর বার করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতেন | তাঁর এই জিজ্ঞাসু মনোভাব, তাঁর চরিত্রকে পাগল হিসাবে রুপান্তরিত করে দেয় মানুষের কাছে |

কিন্তু লোকে তাঁর নামে কি ভাবলো, তাতে তাঁর কিছুই এসে যেত না | তিনি কোনদিনই তাঁর প্রয়োগ এরফলে বন্ধ করেননি |

একদিন তিনি একজনের থেকে শোনেন যে, পাখিরা আকাশে উড়তে পারে কারণ তারা ছোট থেকেই কিট-পতঙ্গ খায় সেইজন্যই | এই কথাটার সত্যতা জানার জন্য তিনি একটা প্রয়োগ করবেন বলে মনে মনে ঠিক করে ফেলেন |

এরপর, পরেরদিন সকাল হতে না হতেই তিনি পাশের একটা পার্কে চলে যান এবং সেখান থেকে অনেক ছোট ছোট কিট-পতঙ্গকে খুঁজে, সেগুলোকে একটা কাঁচের জারে ভরে রাখেন |

আরো পড়ুন: অটল বিহারী বাজপেয়ীর জীবনী

বাড়ি এসে তিনি সেইসব কিট-পতঙ্গের একটা মিশ্রণ তৈরী করেন আর সেই মিশ্রণ তাঁর বন্ধুকে খাইয়ে দেন, শুধু এটা জানার জন্য যে তাঁর বন্ধু এবার পাখিদের মতো আকাশে উড়তে পারে কিনা |

কিন্তু সেই যাত্রায় তাঁর বন্ধুর আর আকাশে ওড়া হলোনা বরং সে পাশের একটা হাসপাতালে অনেকদিনের জন্য ভর্তি হয়ে যায় | কারণ সেই কিট-পতঙ্গের মিশ্রণ খাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেছিলো পুরোপুরি ভাবে |

এডিসন তাঁর এই কর্মের জন্য বাড়িতে সেদিন ভীষন মার খেয়েছিলো বাবা-মার কাছে |

এরপর বেশ কিছুদিন কেটে যায় সাধারণ ভাবেই | এডিসন একদিন স্কুল থেকে আসার পর তাঁর মার হাতে একটা চিঠি দেয় এবং তাঁকে বলেন যে, সেটা তাঁর স্কুল থেকে পাঠিয়েছে |

এডিসনের মা এবার সেই চিঠিটা পড়তে থাকেন এবং চিঠিটা পড়তে পড়তে একসময় তিনি কাঁদতে শুরু করেন | ছোট্ট এডিসন এরপর তা দেখে মাকে কান্নার আসল কারণ জিজ্ঞাসা করেন |

তাঁর মা তাঁকে বলেন, এই চিঠির মধ্যে লেখা আছে: “আপনার ছেলে ভীষন জ্ঞানী, যেহেতু আমাদের স্কুল খুবই সাধারণ এবং ছোট আর এই স্কুলের শিক্ষকরা যেহেতু এত উচ্চশিক্ষিত নন, তাই আপনার ছেলেকে আমরা পড়াতে পারছিনা | আপনি যদি তাঁকে নিজেই শিক্ষা প্রদান করেন তাহলে ভালো হয়”

কিন্তু বাস্তবে সেই চিঠিতে এইসব কিছুই লেখা ছিলোনা | যাতে ছোট এডিসন মনে দুঃখ না লাগে, সেইজন্য তাঁর মা তাঁকে এই কথাগুলো বলেছিল |

আসলে এডিসনকে তাঁর স্কুল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ ছিলো, তাঁর অতিরিক্ত জিজ্ঞাসু ভাব | যেটা স্কুলের বাকি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে অস্বাভাবিক আচরণ বলে মনে হতো |

এডিসন তাঁর স্কুলজীবন শেষ করে মাত্র ৯ বছর বয়সে | তিনি তাঁর স্কুল জীবন কাটিয়েছিলেন মাত্র ৩ মাস |

এরপর ন্যান্সি এলিয়ট অর্থাৎ থমাস এডিসনের মা, তাঁর ছোট্ট ছেলেকে একটা প্রাথমিক বিজ্ঞানের বই উপহার দেন, যেটার মধ্যে রসায়ন বিজ্ঞানের বিভিন্ন ঘরোয়া প্রয়োগের কথা উল্লেখ ছিলো |

এইভাবে বই দেখে অনুশীলন করতে করতে অবশেষে তিনি মাত্র ১০ বছর বয়সেই নিজের বাড়িতে একটা প্রয়োগশালা তৈরী করে ফেলেন | কিন্তু কোনো পারিবারিক কারণ বশত, তাঁর মা তাঁর প্রয়োগের সমস্ত সরঞ্জাম বাড়ির বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেন |

এরপর আবার নতুন করে প্রয়োগশালা তৈরী করতে, এডিসনের দরকার ছিলো প্রচুর টাকার | তাই এবার টাকা উপার্জনের জন্য তিনি রাস্তায় খবরের কাগজ বেচতে শুরু করেন |

এইভাবে অনেকদিন ধরে খবরের কাগজ বেচার পর তিনি জানতে পারেন, একজন ব্যবসায়ী তার পুরনো খবরের কাগজ ছাপানোর যন্ত্র খুবই অল্প দামে বেচতে চলেছেন |

তিনি এবার তখন ঠিক করেন সেই কগজ ছাপানোর যন্ত্রটা কিনে ফেলার | 

অবশেষে খবরের কাগজ বেচে তিনি যা আয় করেছিলেন, তা দিয়ে তিনি সেই ছাপাখানা যন্ত্রটা কিনতে সক্ষম হন |

এরপর এডিসন, নিজেরই তৈরী খবরের কাগজ বেচতে শুরু করেন | সেই খবরের কাগজের নাম তিনি দেন, Grand Trunk Herald | অবশেষে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর নিজস্ব পত্রিকা ট্রেনযাত্রীদের কাছে ভীষন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে |

মাত্র ১২ বছর বয়সে, তিনি খবর সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে, খবরের কাগজের সম্পাদনা, ছাপানো এবং শেষে বিক্রি করা সহ সমস্ত কাজই নিজে করতে শুরু করে দেন |

নিজের খবরের কাগজ বেচে তিনি প্রায় ১০০ ডলারের মতো উপার্জন করে ফেলেছিলেন |

এরপর তিনি তাঁর নতুন প্রয়োগশালা, রেলওয়ে ইয়ার্ডের একটা পরিতক্ত ট্রেনের কামরায় গড়ে তোলেন | যেখানে তিনি রোজ তাঁর নিজের কিছু রাসায়নিক পরীক্ষা চালাতেন |

একদিন রাসায়নিক পরীক্ষা করার সময়, তাঁর হাত থেকে রাসায়নিক পদার্থ নীচে পরে যায় | যারফলে সেই ট্রেনের কামরায় আগুন ধরে ওঠে | অবশেষে রেলওয়ে সুরক্ষা আধিকারিকদের তৎপরতায় সেই আগুনকে নেভানো সম্ভব হয় |

যখন আধিকারিকরা এডিসনকে সেখানে হাতে-নাতে ধরেন, তখন তাদেরই মধ্যে একজন রেলওয়ে আধিকারিক, এডিসনকে তাঁর সেই কাজের জন্য রেগে গিয়ে এক সজোরে চড় মারেন | যারফলে এডিসন তাঁর এক কানের শ্রবণ শক্তি সারাজীবনের জন্য হারায় |

শ্রবণ শক্তি হারানোর পরও তিনি কিন্তু এই ব্যাপারে কোনো প্রকার দুঃখ পাননি বরং তিনি মনে মনে ভীষন আনন্দই পেয়েছিলেন | তিনি এতটাই ইতিবাচক ছিলেন যে, শ্রবণ শক্তি হারানোর বিষয়কে তিনি তাঁর কাজের ক্ষেত্রে সুবিধাই মনে করেছিলেন |

তিনি বলতেন, “এরপর তাঁর কানে মানুষের আর কোনো অপ্রয়োজনীয় কথা ভেসে আসবে না, যারফলে তিনি আরো ভালো করে তাঁর কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন” |

এরপর ধীরে ধীরে যত সময় যেতে থাকে, থমাস এডিসন ততই তাঁর আবিষ্কারের মাধ্যমে সেখানকার মানুষজনদের আশ্চর্য করতে থাকেন |

তিনি সারাদিন চরম পরিশ্রম করার পরও নিজের জন্য সময় ঠিকই বার করে নিতেন |

সেই ফাঁকা সময় তিনি নয়তো বিভিন্ন বই পড়তেন আর নাহলে নিজের প্রয়োগশালায় গিয়ে বিভিন্ন জিনিসের আবিষ্কারে ব্যস্ত রাখতেন নিজেকে |

Edison’s Menlo Park Laboratory

তাঁর প্রথম আবিষ্কার ছিলো, একটি ফনোগ্রাফ মেশিন | যেটার মাধ্যমে কোনো কথার আওয়াজকে রেকর্ড করা যেতে পারতো এবং সেই সাথে সেটাকে পরে শোনাও যেতো খুব সহজেই |

তুমি হয়ত জানোই যে, আগেরকার দিনে টেলিগ্রাফের ভীষন চল ছিলো | মানুষেরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য, সেই টেলিগ্রাফ যন্ত্রের ব্যবহার করতো | কিন্তু তখনকার সময়ের টেলিগ্রাফ খুব বেশি শক্তিশালী ছিলো না |

আরো পড়ুন: সন্দীপ মহেশ্বরীর জীবনী

এডিসন কিন্তু এই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছিলেন আগে থেকেই | তাইতো তিনি টেলিগ্রাফ ব্যবস্থাকে উন্নত করতে জোর কদমে লেগে পরেন |

অবশেষে কিছু মাসের কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি “ইউনিভার্সাল স্টক প্রিন্টার” নামে একটি উন্নত মানের টেলিগ্রাফ মেশিন তৈরী করেন | যেটা একবারে ৪জন মানুষকে তথ্য আদান প্রদান করতে সক্ষম ছিলো  |

ইউনিভার্সাল স্টক প্রিন্টার

অবশেষে সেই ইউনিভার্সাল স্টক প্রিন্টারটা, তখনকার সময় অনুযায়ী প্রায় ৪০০০০ ডলারের বিনিময়ে বিক্রি হয়েও যায় |   

এত টাকা পাওয়ার পর এডিসন, ১৮৭১ সালে আমেরিকার নিউ জার্সিতে একটা ছোট প্রয়োগশালা সহ কারখানা তৈরী করেন | যেখানে পরবর্তী ৫ বছর, তিনি আরো উন্নতমানের যন্ত্রাংশ তৈরী করেন টেলিগ্রাফ যন্ত্রের এবং শহরে টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার উন্নতি সাধনে এক মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন |

থমাস এডিসনের বৈবাহিক জীবন:

এরই মধ্যে তিনি ১৮৭১ সালে ২৫শে ডিসেম্বর মেরি স্টিলওয়েলের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন | তাদের দুজনের তিনটে সন্তান ছিলো | যাদের নাম যথাক্রমে: মেরিওন এসটেলা এডিসন,টমাস আলভা এডিসন জুনিয়র এবং উইলিয়াম লেসলি এডিসন |

কিন্তু থমাস এডিসন এবং মেরি স্টিলওয়েলের বৈবাহিক জীবন খুব বেশি সুদীর্ঘ ছিলোনা | ১৮৮8 সালে তাঁর প্রথম স্ত্রী মেরি স্টিলওয়েলের অবশেষে মৃত্যু হয় | যদিও প্রথম স্ত্রীয়ের মৃত্যুর ঠিক পরের বছরেই অর্থাৎ ১৮৮৫ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য আবার বিয়ে করেন |

তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ছিলো মিনা মিলার | যিনি মাত্র একজন ২০ বছর বয়সী মহিলা ছিলেন | তাদের দুজনেরও তিনটে করে সন্তান ছিলো | যাদের নাম যথাক্রমে: মেডেলিন এডিসন,চার্লস এডিসন এবং থিওডর এডিসন |

লাইট বাল্বের আবিষ্কার:

থমাস আলভা এডিসন তাঁর জীবনকালে প্রচুর আবিষ্কার করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু যেই আবিষ্কারের জন্য তিনি আজ বিশ্বজুড়ে এত জনপ্রিয়, সেটা হলো তাঁর লাইট বাল্বের আবিষ্কার | 

তিনি ১৮৭৮ সালে, লাইট বাল্বের আবিষ্কার করতে সক্ষম হন |

বিশ্বের প্রথম লাইট বাল্ব

তখনকার দিনের মানুষ, রাতের বেলায় ভালো করে কাজ করতে পারতো না পর্যাপ্ত আলোর অভাবে | যদিও মোমবাতির আলোর ব্যবহার মানুষ করতো ঠিকই,   কিন্তু তার আলো বেশি জোরালো ছিলোনা |

এডিসন এবার আলোর সমস্যাকে পাকাপাকি ভাবে দূর করার জন্য বিভিন্ন রকমের প্রয়োগ করতে থাকেন তাঁর প্রয়োগশালায় |

তিনি বাল্বের ফিলামেন্টকে তৈরী করার জন্য প্রথমে কার্বনের ব্যবহার করেন, সেটায় অসফল হওয়ার পর তিনি এরপর প্লাটিনাম, লোহা ও অন্যান্য ধাতুর প্রয়োগ করতে থাকেন কিন্তু অনেক কিছু ব্যবহার করার পরেও তিনি সফল কিছুতেই হচ্ছিলেন না |

লাইট বাল্ব তৈরী করতে তাকে প্রায় ৯৯৯৯ বার ব্যর্থ হতে হয়েছিল | এতবার ব্যর্থ হওয়ার পরও তিনি কোনদিন হার মানেননি | সর্বদা আরো নতুন উদ্যমে আর আগের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি পুণরায় লেগে পরতেন বাল্ব তৈরির কাজে |

অবশেষে ১০০০০ বারের চেষ্টায়, তিনি অবশেষে সফল হন বিশ্বের প্রথম লাইট বাল্ব তৈরীর ক্ষেত্রে | ২২শে অক্টোবার, ১৮৭৯ সালে তিনি সর্বসমক্ষে, নিজের লাইট বাল্বের সফল পরীক্ষা করেন | সেই লাইট বাল্ব প্রায় ১৩.৫ ঘন্টা ধরে জ্বলেছিল |

এরপর তিনি বাল্বের আলোর সময়সীমাকে বাড়ানোর জন্য আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন | অবশেষে ৪ই নভেম্বর, ১৮৭৯ সালে উন্নতমানের কার্বন ফিলামেন্ট দিয়ে তৈরী বাল্ব, সকলের ব্যবহারের জন্য বাজারে বিক্রি করা হয় |

এত বড় একটা সাফল্যের পর, যখন থমাস এডিসনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়, তখন   সাক্ষাৎকারকারী তাঁকে প্রশ্ন করেন – আপনি কি করে এতবার লাগাতার ব্যর্থ হওয়ার পরও হার না মেনে নিজের কাজ চালিয়েছিলেন?

তখন এই প্রশ্নের উত্তরে এডিসন সেই ব্যক্তিকে জবাব দেন- “আমি ৯৯৯৯ বার অসফল হয়নি, আমি এতবার এমন সব পথ বার করেছিলাম সেটা আবিষ্কার করার, যেগুলি কোনো কাজেই আসেনি” |

তিনি বরাবরই ইতিবাচক স্বভাবের মানুষ ছিলেন, সেই কথা তো আমরা আগেই জেনেছি আর এক্ষেত্রেও তাঁর সেই স্বভাবের কোনো পরিবর্তনই হয়নি |

তাঁর এই মানসিকতা, আমাদের সবাইকে এটাই শিক্ষা দেয় যে, আমাদের কখনই হার মানা উচিত নয়, সর্বদা চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত এবং ততক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত যতক্ষণ না আমরা সেই কাজে বিজয়ী হই |

অবশেষে থমাস আলভা এডিসন ১৯৩১ সালের ১৮ই অক্টোবর তারিখে মারা যান | মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৪ বছরের কাছাকাছি | তাঁর মৃত্যুর পর সম্পূর্ণ একদিনের জন্য সারা আমেরিকার আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো তাঁকে শেষ সন্মান জানানোর জন্য |

থমাস আলভা এডিসনের প্রাপ্ত পুরস্কার সমূহ:-

১. ১৮৮৭ সালে তিনি যেতেন Matteucci Medal

২. ১৮৮৯ সালে তাঁকে John Scott Medal দিয়ে সম্মানিত করা হয়

৩. ১৮৯৯ সালে ফ্রাঙ্কলিন ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে তাঁকে Edward Longstreth Medal দিয়ে সম্মানিত করা হয়

৪. ১৯০৮ সালে তিনি পান John Fritz Medal

৫. ১৯১৫ সালে আবার ফ্রাঙ্কলিন ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে Franklin Medal দিয়ে সম্মানিত করা হয়

৬. ১৯২০ সালে US Navy ডিপার্টমেন্ট তাঁকে Navy Distinguished Service Medal দিয়ে সম্মানিত করে

৭. ১৯২৭ সালে National Academy of Sciences-এর পক্ষ থেকে তাঁকে সদস্যপদ দেওয়া হয়

৮. ১৯২৮ সালের ২৯শে মে, তাঁকে  Congressional Gold Medal দেওয়া হয়

৯. ১৯৮৩ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারী, এডিসনের জন্মদিনের দিনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য আমেরিকার মানুষ “জাতীয় আবিষ্কারক দিবস” হিসাবে পালন করা শুরু করে

১০. ২০০৮ সালে এডিসনকে New Jersey Hall of Fame-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়

১১. ২০১০ সালে এডিসনকে Technical Grammy Award দিয়ে সম্মানিত করা হয়

১২. ২০১১ সালে এডিসনকে Entrepreneur Walk of Fame-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়  


আশা করি তুমি “Thomas Alva Edison Life Story in Bengali”  পড়ে নিশ্চই অনেক কিছু সুন্দর তথ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছো | পোস্টটা ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই একটু Comment করে তোমার মতামত আমায় জানিও | তোমার মূল্যবান মতামত আমাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাতে  ভীষনভাবে সাহায্য করে |      

About the author

admin

Hi Readers I’m Bebeto Raha, a Professional Youtuber & a blogger from Kolkata. My hobby is Playing Guitar, Making Youtube Videos, Watching Films. Also I love to read any kinds of knowledgeable book written by any good author.

View all posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *