বিরাট কোহলির সফলতার কাহিনী | Virat Kohli Success Story

বিরাট কোহলির সফলতার কাহিনী | Virat Kohli Success Story

নামবিরাট কোহলি (Virat Kohli)
ডাক নামচিকু, রান মেশিন
পেশাভারতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটসম্যান ও অধিনায়ক
জন্মদিন৫ই নভেম্বর,১৯৮৮
বাবার নামপ্রেম কোহলি
মায়ের নামসরোজ কোহলি
বয়স৩০ বছর
জন্মস্থানউত্তম নগর,দিল্লি
জাতীয়তাভারতীয়
বৈবাহিক স্থিতিবিবাহিত
স্ত্রীঅনুষ্কা শর্মা কোহলি
বিবাহের দিন১১ই ডিসেম্বর,২০১৭
শখWorkout, Traveling, Singing, Dancing
গাড়ি সংগ্রহAudi R8 V10, Audi Q7, Toyota Fortuner

Virat Kohli Success Story

বিরাট কোহলি বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে সফলতম ব্যাটসম্যান এবং অধিনায়ক | খুবই অল্প সময়ের মধ্যে নিজের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের দ্বারা তিনি হয়ে উঠেছেন বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একজন |

যেইভাবে তিনি এত কম সময়ের মধ্যে রান বানিয়েছেন, ঠিক সেইভাবেই তিনি সবার প্রিয় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন অতি কম সময়ের মধ্যে | ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে, বিরাটই হচ্ছে শচীন তেন্দুলকারের একমাত্র যোগ্য উত্তরসূরী |

কিছু সময় আগে মহেন্দ্র সিং ধোনির, ক্রিকেটের তিনটি ফরম্যাট থেকে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর তাকেই ইন্ডিয়ান ক্রিকেটের পরবর্তী ক্যাপ্টেন হিসাবে বেছে নেওয়া হয় |

Early Life of Virat Kohli:

বিরাট কোহলির জন্ম ১৯৮৮ সালের ৫ই নভেম্বর, দিল্লীর উত্তম নগরের একটি পাঞ্জাবী পরিবারে |  বিরাটের বাবা প্রেম কোহলি ছিলেন পেশায় একজন Criminal Lawyer এবং তার মা সরোজ কোহলি ছিলেন সাধারণ একজন Housewife |

বিরাট কোহলির সফলতার কাহিনী | Virat Kohli Success Story

বিরাট ছিলো তার পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলে এবং তাঁর বাবার ভীষণ পছন্দের একজন |

বিরাটের মায়ের মতে, মাত্র ৩ বছর বয়স থেকেই বিরাট ক্রিকেট খেলা শুরু করেন এবং ক্রিকেট খেলার জন্য সর্বদা নাকি তিনি তাঁর বাবাকে ভীষন বিরক্ত করতেন |

বিরাট কোহলি দিল্লীর বিশাল ভারতী পাবলিক স্কুল থেকে তার জীবনের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন |  যেহেতু ছোটবেলা থেকেই তার ক্রিকেটের প্রতি এক গভীর রুচি ছিলো, তাই তার বাবা তাকে মাত্র ৯ বছর বয়সেই Delhi Cricket Academy-তে ভর্তি করে দেন |

বিরাট কোহলি সেখানে, কোচ রাজকুমার শর্মার তত্ত্বাবধানে ক্রিকেট শেখা শুরু করেন এবং দেখতে দেখতে মাত্র ১৫ বছর বয়সেই দিল্লীর অনূর্ধ্ব-১৫ দলে সুযোগ পেয়ে যান | সেইসময় বিরাট ২০০২-২০০৩ সালের Polly Umrigar Trophy-তে  প্রথমবার প্রফেশনাল ক্রিকেট খেলেন এবং সেই খেলায় সর্বাধিক রান করে ম্যান অফ দ্য সিরিজ হিসাবে পুরস্কিত হন |

তোমরা জানো, সেই পুরস্কার তাকে কে দেন?

সেই পুরস্কার তাকে আর কেউ নন, স্বয়ং তখনকার সময়ের ইন্ডিয়া টিমের সেরা বোলার আশিস নেহেরা দিয়েছিলেন |

পরের বছর ২০০৪ সালে, তিনি খুবই কম সময়ের মধ্যে দিল্লীর অনূর্ধ্ব-১৭ দলের সদস্য হন | সেই সময় তিনি Vijay Marchent Trophy-তে প্রথমবারের জন্য খেলেন এবং সেই ৪ ম্যাচের সিরিজে তিনি ৪৫০ রানের বেশি স্কোর করে নজির গড়ে দেন |

সেই সময় সবই ভালো চলছিলো কিন্তু হঠাৎই দেখতে দেখতে বিরাটের জীবনে নেমে আসে কালো  অন্ধকার যখন ১৮ই ডিসেম্বর ২০০৬ সালে, তার বাবা প্রেম কোহলির ব্রেন স্ট্রোকের ফলে মৃত্যু হয় | বাবার মৃত্যুর খবর বিরাটকে ভীতর থেকে একেবারে ভেঙ্গে দেয় কারণ বিরাটের কাছে তার বাবাই ছিলো সব |

তিনি তার বাবাকে ভীষন ভালবাসতেন এবং তাঁর সাথেই জীবনের সব কিছু শেয়ার করতেন | এছাড়া তার বাবার জন্যই তিনি আজ ক্রিকেট খেলায় আসেন |

বিরাট তার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আজ ক্রিকেট খেলার পিছনে তার বাবার অবদানই ছিলো সব থেকে বেশি | যখন তার বাবার মৃত্যু হয়, সেই সময়টা তার পরিবারের ক্ষেত্রে খুবই চাপের সময় ছিলো | তিনি এও বলেন, আজও তার সেইসময়ের কথা ভাবলে তার চোখে জল চলে আসে |

ছোটবেলায় ক্রিকেটে ভর্তি করা, প্রতিদিন অনুশীলনে নিয়ে যাওয়া এইসব কিছুতেই তার বাবার হাত ছিলো | এমনকি তার বাবা তার সাথে রোজ কিছু সময় ক্রিকেটও খেলতেন, তাই বিরাটের ক্ষেত্রে তার বাবার সেইসব স্মৃতিকে ভুলে যাওয়া মোটেই সহজ কাজ ছিলো না |

Entry in International Cricket

অবশেষে ২০০৬ সালে জুলাই মাসেই, বিরাট ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলার জন্য ডাক পান | তার ইন্ডিয়ার জার্সিতে প্রথম সফর ছিলো ইংল্যান্ডে | সেই সফরে ৩টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে তিনি মাত্র ১০৫ রান করেন |

এইভাবেই দেখতে দেখতে তিনি ধীরে ধীরে নিজের ব্যাটিং পারফরম্যান্সকে উন্নত করতে থাকেন এবং খুব তাড়াতাড়ি বড় রান করতে শুরু করেন | সেই দেখে তাকে মাত্র দুই বছরের মধ্যে অর্থাৎ মার্চ, ২০০৮ সালে সেই দলের অধিনায়ক করে দেওয়া হয় |

সেই বছরেই মালোশিয়ায় Under-19 World Cup অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অধিনায়ক বিরাট কোহলির দূরন্ত Performance-এর দৌলতে ভারত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় |

এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দারুন পারফর্ম করায় তাকে সেই বছর অর্থাৎ ২০০৮ সালে প্রথমবারের জন্য ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (IPL) Royal Challengers Bangalore টিমে সই করানো হয় মাত্র ২০ লক্ষ্য টাকার বিনিময়ে |

তাছাড়া ওই একই বছরে, বিরাট ও তার দুজন সহ খেলোয়াড় প্রদীপ সাঙ্গওয়ান এবং তন্ময় শ্রীবাস্তব Border-Gavaskar Scholarship স্কলারশিপ পান | যার সুবাদে তাদের তিনজনকে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবনে অবস্থিত Brisbane Sthit Center of Excellence ট্রেনিংয়ের জন্যও পাঠানো হয় |

বিশ্বকাপে দারুন খেলার জন্যই, অবশেষে ২০০৯ সালে, বিরাটকে ভারতের সিনিয়র দলে খেলার জন্য বেছে নেওয়া হয় | তিনি ইন্ডিয়ার জার্সিতে প্রথমবারের জন্য Debut করেন শ্রীলঙ্কা সফরে যেখানে তিনি মাত্র ১২ রান করেন প্রথম ম্যাচে |

প্রথম প্রথম ইন্ডিয়া টিমে বিরাট কোহলিকে একজন রিসার্ভ ব্যাটসম্যান হিসাবে বসিয়ে রাখা হত | তাকে খুব বেশি ম্যাচে খেলানো হতো না | কিন্তু ধীরে ধীরে বিরাট, নিজের খেলাকে উন্নত করতে থাকেন এবং তিনি একসময় পাকাপাকি ভাবে ইন্ডিয়া টিমের একজন গুরুত্বপূর্ণ মিডিল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসাবে খেলা শুরু করেন |

Read More: ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোর সফলতার কাহিনী

এরপর একসময় আসে, যখন বিরাট কোহলির প্রত্যেক ম্যাচে দূর্দান্ত ব্যাটিং করার দৌলতে টিম ইন্ডিয়া অনবরত ম্যাচ জিততে থাকে বিভিন্ন টিমের বিরুদ্ধে | যার সুবাদে টিম ইন্ডিয়া, প্রথম বারের জন্য ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শীর্ষ স্থান দখল করতে সক্ষম হয় |

২০১১ সালে যখন টিম ইন্ডিয়া দক্ষিন আফ্রিকা সফরে যায়, তখন সেখানে একদিনের ক্রিকেট সিরিজে বিরাট সর্বাধিক রান করেন | কিন্তু দুখের বিষয় প্রচুর রান করার পরেও সেই সিরিজ ভারত হেরে যায় | সেই গোটা সিরিজে তিনি সর্বাধিক ১৯৩ রান করা ছাড়াও দুটি অর্ধশতকও করেন |

২০১১ সালে সেই বছর ভারতে ক্রিকেট বিশ্বকাপ আয়োজিত হয় এবং বিরাট কোহলি ইন্ডিয়ার হয়ে খেলার সুযোগ পেয়ে যান | আর সুযোগ পেয়েই তিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১০০ রানের একটি মন মাতানো ইনিংস খেলেন |

বিরাট কোহলি হচ্ছেন প্রথম একজন ভারতীয় খেলোয়াড়, যিনি কিনা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ১০০ রান করেন |

অবশেষে ইন্ডিয়া ১৯৮৩ সালের পর দ্বিতীয়বারের জন্য ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জিততে সক্ষম হয়, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে | সেই বছর বিরাট ICC-এর বিচারে সর্বাধিক রান স্কোরার হন | তার মোট রান ছিলো ১৩৮১ রান, যার মধ্যে ৪টে শতক ছিলো |

আইপিএলে বিরাট সেই ২০০৮ সাল থেকেই Royal Challengers Bangalore হয়ে খেলে চলেছেন এবং বর্তমানে তিনি সেই টিমের একজন অধিনায়কও |

বিরাট কোহলি এখনো পর্যন্ত আইপিএলে ১৩৭ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন যেখানে তার মোট রান হলো ৪০৫৬ রান | আইপিএলে তার এখনো অবধি ৪টে শতক আছে এবং ২৫টির বেশি অর্ধশতক আছে |

এবার আসি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, যেখানে বিরাট কোহলি এখনো পর্যন্ত করে ফেলেছেন মোট ১৭৯৭৯ রান | যার মধ্যে এখনো পর্যন্ত তার টেস্টে সেঞ্চুরি রয়েছে মোট ২৩টা এবং ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি রয়েছে মোট ৩৫টা মতো |

এই ছিলো বিরাট কোহলির ক্রিকেট ক্যারিয়ার সম্বন্ধে কিছু কথা | এবার তবে জানা যাক তার বৈবাহিক জীবন সম্বন্ধে |

Personal Life of Virat:

তুমি তো আশা করি এটা জানোই যে, বিরাটের স্ত্রী আসলে কে? যদি তুমি না জেনে থাকো, তাহলে তোমায় জানিয়ে দিই যে, বিরাট কোহলির স্ত্রী আর কেউ নন, বলিউড অভিনেত্রী অনুষ্কা শর্মা | ২০১৩ সালে অনুস্কার সাথে বিরাটের বন্ধুত্ব হয় এবং দেখতে দেখতে সেই বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হয়ে ওঠে |

অবশেষে ৪ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর, গত বছর ২০১৭ সালে ১১ই ডিসেম্বর তারিখে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয় |

Awards And Honour of VIrat Kohli
*ICC ODI ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার, ২০১২

*অর্জুন পুরস্কার,২০১৩

*পদ্মশ্রী পুরস্কার, ২০১৭

*BCCI Polly Umrigar পুরস্কার, ২০১১-২০১২,২০১৪-২০১৫,২০১৫-২০১৬

* Wisden Leading Cricketer of the Year, ২০১৬

*ICC ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার, ২০১৭

*ICC ওয়ার্ল্ড টেস্ট XI (অধিনায়ক), ২০১৭

*CEAT ইন্টার-ন্যাশনাল ক্রিকেটার অফ দ্য ইয়ার,২০১১-২০১৩

Virat Kohli World Records in ODIs
*প্রথম ভারতীয় এবং বিশ্বের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসাবে দ্রুততম ৫০০০ রান গড়ার নজির

*প্রথম ভারতীয় এবং বিশ্বের দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসাবে দ্রুত ১০টি সেঞ্চুরি গড়ার নজির

*প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে দ্রুততম ৩০টি সেঞ্চুরি করার নজির

Virat Kohli World Records in TEST CRICKET
*২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে পরপর ৩টি ইনিংসে দ্বি-শতক করে তিনি হয়ে ওঠেন দ্বিতীয় ভারতীয় ক্রিকেটার যিনি এই অসামান্য নজির গড়েন | প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলি এই কীর্তি গড়েছিলেন |

*প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক হিসাবে মাত্র ১৯৪টি ইনিংসেই ৯০০০ রান গড়ার মালিক একমাত্র তিনি

*২০১২ সালে সর্বাধিক টেস্টে রান করা ভারতীয় ক্রিকেটার

Read More: সন্দীপ মহেশ্বরীর জীবনী

Virat Kohli World Records in T20
*টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম ১০০০ রানের মালিক

*বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান যিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন, যার হাফ-সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৭টারও বেশি |

Virat Kohli Records as Captain
*বিরাট কোহলির অধিনায়কত্বে টিম ইন্ডিয়া ২০১৫ থেকে ২০১৬ সাল অবধি সমস্ত টেস্ট সিরিজ জেতে | এর আগে পরপর ৯টি টেস্ট সিরিজ জেতার রেকর্ড একমাত্র অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের ছিলো |

*বিদেশের মাটিতে দ্বি-শতক করা প্রথম ভারতীয় ব্যাটসম্যান

*প্রথম ভারতীয় অধিনায়ক হিসাবে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক ১২টি সেঞ্চুরি গড়ার নজির

*টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক ৬টি দ্বি-শতক বানানো বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান

*২০১১ সালে আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে সর্বাধিক রান করা ব্যাটসম্যান


Hope you find this post about “Virat Kohli Success Story in Bengali” useful and inspiring. if you like this Information About Virat Kohli then please share on Facebook & Whatsapp. And If You Want to Share Your Own Motivational Poems & Travel Stories, Then Please Click Here.

About the author

admin

Hi Readers I’m Bebeto Raha, a Professional Youtuber & a blogger from Kolkata. My hobby is Playing Guitar, Making Youtube Videos, Watching Films. Also I love to read any kinds of knowledgeable book written by any good author.

View all posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *